গঙ্গাজলঘাটি, বাঁকুড়াঃ এক সময় নাকি কলেরার প্রকোপে উজাড় হয়ে যাওয়া গ্রামকে রক্ষা করেছিলেন এই দেবী! প্রাচীন রীতি মেনে সাড়ে বাইশ চালেই নাকি আজও পূজো হয় এই দেবীর!
চলুন আপনাদের নিয়ে যায় বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির ভক্তাবাঁধ গ্রাম। সাধারণত অগ্রহায়ন মাসে কালীপুজোর চল থাকলেও এই গ্রামে রক্ষাকালীর পুজো হয় চৈত্র মাসে। এই পুজো কেনই বা চৈত্র মাসে হয়? কেনই বা সাড়ে বাইশ সের করে চাল দিয়েই হয়? তা জানতে হলে আমাদের অনেকটাই পিছিয়ে যেতে হবে। লোক মুখে জানা যায়, তখন সালটা ছিল ১৩০১ বঙ্গাব্দ। প্রথম দশকের মাসটা ছিল চৈত্র মাস। গ্রাম জুড়ে তখন কলেরার প্রভাবে একের পর এক বাড়ি উজাড় হওয়ার উপক্রম। এদিকে চিকিৎসা ব্যবস্থাও তখন এতটা উন্নতি হয়নি। হলেও বা চিকিৎসার আর্থিক সামর্থ্য ছিল না গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলোর। এমতাবস্থায় সংকটময় পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পথ দেখাতে গ্রামেরই এক জনৈক্য ব্যক্তিকে গ্রামে কালীপুজো করার স্বপ্নাদেশ দেন মা কালী। কিন্তু পুজোর তো অনেক খরচ অর্থ কোথায়? গ্রামের সকলে মিলে ঠিক করা হয় রান্না করা চাল থেকে প্রতিদিন এক মুঠো করে চাল কালীপুজোর নিমিত্তে রাখার জন্য। বছরে শেষে তা হিসেবে দাঁড়ায় সাড়ে বাইশ সের চাল। ব্যাস তা দিয়েই গঙ্গাজলঘাটির ভক্তাবাঁধ গ্রামে শুরু হয় মা রক্ষাকালীর পুজো।
কথিত আছে এই পুজোর ফলেই গ্রাম রক্ষা পেয়েছিল কলেরার প্রকোপ থেকে, তাই দেবী এখানে রক্ষাকালী রূপেই পূজিত হন। আজ ১৪০০ বঙ্গাব্দের দ্বিতীয় দশকের শেষভাগে দাঁড়িয়েও পুরাতন ঐতিহ্য সমুজ্জল ভক্তাবাঁধ গ্রামের চৈত্র কালী বা রক্ষা কালীর পুজো। ১৩ ই চৈত্র এখানে পুজো শুরু হলেও চলে বেশ কিছুদিন ধরে, বংশ পরম্পরা ভাবে মূর্তি গড়ার কাজে সাহায্য করে গ্রামের এক বাগদী পরিবার, এবং পুজোর একমাস আগে থেকেই গ্রামের বাদ্যকর রা ঢাক নিয়ে হাজির হয় মন্দিরে, এখানকার পুজোকে কেন্দ্র করে সামিল হোন দূরদূরান্তের অনেক মানুষজন। বেশ কিছুদিন ধরে চলে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এবং যাত্রাপালা, পসরা সাজিয়ে বসে দোকানদাররা। গ্রামের অনেক মানুষ কর্মসূত্রে বাইরে থাকলেও এই পুজোতে সকলে বাড়ি আসবে না তা কি কখনো হয়? কর্ম ছেড়ে কয়েক দিনের জন্য গ্রামে আসেন সকলেই । জাতি বর্ণ নির্বিশেষে এই পুজোকে কেন্দ্র করে ভক্তাবাঁধ গ্রাম যেন এক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।




0 মন্তব্যসমূহ